1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : editor :
  3. [email protected] : moshiur :
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

চ্যালেঞ্জের অগ্নি পরীক্ষায় ইসি
রাত পোহালেই খুলনা-বরিশাল সিটির ভোট

মহানগর রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জুন, ২০২৩
  • ৯০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি করপোরেশন ভোটের অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন। ইতোমধ্যেই নিজেদের সাংবিধানিক ক্ষমতায় শক্ত অবস্থান নিয়ে গাজীপুর সিটির ভোট করে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে আউয়াল কমিশন। তবে একটি সিটি ভোট সুষ্ঠু হলেও সোমবার (১২ জুন) কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একইদিনে খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোট হতে যাচ্ছে। যদিও রোববার (১১ জুন) জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে কেউ কোনো অনিয়ম করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের চেয়েও বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট ভালো হবে বলেও জানান তিনি।

ইসি জানায়, খুলনা ও বরিশাল সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট করবে ইসি। ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। কেন্দ্র পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ থেকে ১৭ জনের ফোর্স। মাঠে নির্বাচনী আচরণ প্রতিপালনে নিয়োজিত করা হয়েছে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া, রয়েছে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক টিম। নির্বাচন ভবনে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন নির্বাচন কমিশনাররাও।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) শফিকুল ইসলাম মধু লাঙল প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে ও জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন গোলাপ ফুল প্রতীক এবং এস এম শফিকুর রহমান টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জান এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন। ভোটগ্রহণ করা হবে ২৮৯টি কেন্দ্রের এক হাজার ৭৩২টি বুথে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ১১ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১৬টি টিম, পুলিশ-এপিবিএন-ব্যাটালিয়ন আনসারে ৪৯টি টিম।

অন্যদিকে, বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু, টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন, হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান ও হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হোসেন হাওলাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোটের মাঠে রয়েছেন ১৫৮ জন প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ১১৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৪২ জন।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানায়, নির্বাচনে দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মোট ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনী এলাকায় ৩০ জন নির্বাহী ও ১০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও বিভিন্ন অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ সম্পন্ন করবেন। ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি, তিন সেকশন কোস্টগার্ড, র‍্যাবের ১৬টি টিম, পুলিশ-এপিবিএন-ব্যাটালিয়ন আনসারের ৪৩টি টিম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটের দু’দিন পর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৭২ ঘণ্টার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে মোটরসাইকেল। ভোটের দিন সীমিত থাকবে যন্ত্রচালিত যান চলাচল। নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সব ধরনের মিছিলের ওপরও। সবার ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ভোটের এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেছেন, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের চেয়ে ভালো হবে। অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে অতীতের চেয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে তার কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনে বিধি-বিধান প্রতিপালনে আমাদের অবস্থান কঠোর ছিল, খুলনা ও বরিশাল সিটি নির্বাচনের প্রতিটি পদক্ষেপেই আমরা সুতীক্ষ্ণ নজর রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। ভোটের দিনও আমরা সরাসরি সিসি ক্যামেরায় এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবো।

সোমবার কক্সবাজার পৌরসভা ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজার পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মাহাবুবার রহমান চৌধুরী নৌকা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাহেদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে, স্বতন্ত্র থেকে হেলমেট প্রতীকে জগদীশ বড়ুয়া, মোবাইল ফোন প্রতীকে জোসনা হক, নারকেল গাছ প্রতীকে মাসেদুল হক রাশেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৬৪ জন প্রার্থী।

এছাড়া, আড়াইহাজার পৌরসভায় মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মো. সুন্দর আলী নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর স্বতন্ত্র থেকে জগ প্রতীকে হাবিবুর রহমান, মোবাইল ফোন প্রতীকে মোহাম্মদ মামুন অর রশিদ ও নারকেল গাছ প্রতীকে মেহের আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৪৫ জন প্রার্থী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট