1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : editor :
  3. [email protected] : moshiur :
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৬:০২ অপরাহ্ন

অনলাইনে জমে উঠেছে আমের বাজার

মহানগর রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০২৩
  • ১৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজধানীর নিকেতনের একটি বেসরকারি বায়িং হাউজ নিটেক্স লিমিটেড। এই অফিসের ১৪৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারী সিদ্ধান্ত নিলেন সরাসরি বাগান থেকে কিনে মৌসুমি ফলের উৎসব করবেন। সিদ্ধান্ত হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম, দিনাজপুর থেকে লিচু সরাসরি বাগান থেকে অর্ডার করবেন।

যথারীতি অনলাইনে সার্চ করে মাহবুব হোসেন নামে একজন মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীর খোঁজ পেলেন। তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলের অর্ডার দেওয়ার একদিনের মধ্যে তাজা ফল অফিসে পৌঁছে দেন তিনি।

ফলের মান ও দাম নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে নিটেক্স লিমিটেডের কর্মকর্তা তানজিম মাহমুদ বলেন, অনলাইনে অর্ডার করলে পচা বা নষ্ট ফল দেয় এমন অভিযোগ প্রায় সবার। কিন্তু আমাদের যে ফল দেওয়া হয়েছে তা একদম টাটকা ও ভালো মানের।

শুধু অফিসে নয়, বাসা বা পরিবারের জন্যও এখন প্রচুর মানুষ অনলাইনে ফল অর্ডার করছেন। অনলাইনে মৌসুমি ফলের ব্যবসায়ও নেমেছেন অনেকে। তারা বাগান থেকে নানা জাতের ফল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন।

জানতে চাইলে অনলাইনে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন বলেন, আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষ করে অবসরে আছি। ফলের মৌসুমে ব্যবসা করছি। আমার বাড়ি যেহেতু দিনাজপুর, তাই এখানকার বাগানের ফল সর্ম্পকে ছোটবেলা থেকে ধারণা ছিল। এখন শুধু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফল পৌঁছে দিই।

তিনি বলেন, আমি এবার ৪৪টি লিচু বাগান কিনেছি। সব লিচু ঢাকাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে দিয়েছি। লিচু প্রায় শেষ। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। যেকোনো অফিস থেকে আগের দিন অর্ডার দিলে পরের দিন সকালে ফল পৌঁছে দেওয়া হয়।

শুধু মাহবুব নন, তার মতো অনেকেই এখন মৌসুমি ফলের ব্যবসা করছেন। তারা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, ঈশ্বরদী থেকে আম ও লিচু এনে শহরের ফলপ্রেমী মানুষদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। মাধ্যম হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফল বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।

উদ্যোক্তারা বলছেন, গত এক দশক ধরে মৌসুমি ফল ব্যবসা অনলাইনে চলছে। তবে করোনা মহামারির সময় এই প্ল্যাটফর্ম বেশি জনপ্রিয়তা পায়। রাজধানীর ফলের দোকান থেকে ফল কিনলে অতিরিক্ত ফরমালিন থাকে। পাশাপাশি দাম বেশি পড়ে। সেক্ষেত্রে অনলাইনে দাম তুলনামূলক কমে পাওয়া যায়। এছাড়া মানও ভালো হয়।

ফেসবুকে ‘মৌসুমি ফলের দোকান’ নামে একটি পেইজ চালান সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে আমি ১৩ টন আম বিক্রি করেছি। সবই অনলাইনে অর্ডার হয়েছে।

গ্রিন ফুডস শপ নামে একটি পেজের মাধ্যমে অনলাইনে ফল বিক্রি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েল। তার সঙ্গে আরও চার বন্ধু রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। আমরা পাচঁ বন্ধু মিলে ২০২১ সাল থেকে মৌসুমি ফল বিক্রি করে আসছি। আমাদের বাড়ি যেহেতু রাজশাহীতে তাই বাগান কেনা এবং রক্ষাণাবেক্ষণ করতে তেমন সমস্যা হয় না। পড়াশোনার পাশাপাশি এই ব্যবসায় ভালো করছি।

তিনি আরও বলেন, দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবসার টাকা দিয়ে আমার সারা বছরের পড়াশোনার খরচ জোগাড় হয়ে যায়। এবার ব্যবসা একটু খারাপ। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অর্ডার পাচ্ছি না।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিফাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক টাইমলাইন ব্যবহার করে মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন। তিনি জানান, আমার কর্পোরেট লেভেলে গ্রাহক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, শিক্ষক বা তার পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে অর্ডার পাচ্ছি।

কোথা থেকে ফল সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে সিফাত বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকজন বন্ধু অফিস নিয়ে মৌসুমি ফলের ব্যবসা করে। আমি যখন অর্ডার পাই তখন তাদের কাছ থেকে ফল এনে ডেলিভারি করি।

অনলাইনের বাজারে এই মুহূর্তে হিমসাগর আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গোবিন্দভোগ আম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গুটি আম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ল্যাংড়া আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ পিচ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা দরে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট