1. admin@mohanagarbarta.com : admin :
  2. editor@mohanagarbarta.com : editor :
  3. moshiur12600@gmail.com : moshiur :
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি, আজও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান ভূমিকম্পের ৩ মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ : আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সকাল ১০টায়

রাজশাহীতে আদালতের বিচক্ষণতায় বেঁচে গেলো একটি সংসার, হাসি মুখে বাড়ি গেল দম্পতি

মহানগর রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৯৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় রাজশাহীর আদালত চত্বরে বিচার প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। প্রতিটি আদালতের সামনেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিচার প্রার্থীদের। রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ একটি যৌতুকের মামলায় জামিন শুনানি কালে শিশুর কান্নার আওয়াজ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচারক মাসুদুজ্জামানের। বাদীর কাঠগড়ায় একটি সদ্য সাবালিকা মেয়ে (১৮/১৯) কোলে ৬ মাসের ফুটফুটে একটি শিশু কাদঁছে। আসামীর কাঠগড়ায় (২২/২৩) একটি তরুণ দাঁড়িয়ে।

আদালত সূত্র জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালি থানার সমসাদিপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে শিমুল পারভেজ এর সাথে একই গ্রামের স্বপন আলীর মেয়ে জান্নাত ফেরদৌস মিতুর বিয়ে হয় গত এক বছর ৮ মাস আগে। এর পর সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে আসামি বাদীনিকে তালাক প্রদান করে। ইতিমধ্যে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। জামিন শুনানিকালে বাদীনির চোখে পানি এবং আসামিকে মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বাদী ও আসামির পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীদের বক্তব্য চলতে থাকলেও আদালতের দৃষ্টি ছিল শিশুটির দিকে। শুনানীর এক পর্যায়ে বিচারক বলে উঠলেন শিশুটির ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাদী এবং আসামি এক হতে চায় কিনা?

ঠিক তখনই বাদীনি এবং আসামী পরস্পরের কিছু দোষ ত্রুটি উল্লেখ করেন আদালতের সামনে। আদালত মনদিয়ে তাদের কথা শোনার পর বর্তমান সামাজের প্রেক্ষাপটে কিছু উপদেশ মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার পর বরফ গলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বাদী এবং আসামী উভয়ে আদালতের মধ্যস্থতায় নতুনভাবে সংসারে ফিরতে রাজি হন।

ঘড়িতে বেলা ১টা বাজতেই রাজশাহী মেট্রপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। একে একে আদালতের এজলাস কক্ষে হাজির হন মেয়ে পক্ষের অভিভাবক, ছেলে পক্ষের অভিভাবক, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদী, বাদী ও আসামী পক্ষে নিযুক্তিয় আইনজীবী, বিভিন্ন কোর্টের কর্মচারী ও বিচার প্রার্থীরা।

সর্বশেষ হাজির হন রাজশাহী মহানগর ৪ নং ওয়ার্ডের কাজী মো: জহিরুল ইসলাম। আদালতে কক্ষের ভিতরেই ১ লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে পরানো হয়। বিয়ের পরেই আদালত অঙ্গনে শুরু হয় মিষ্টি বিতরণ। এ সময় উৎসুক জনতা বিবাহিত দম্পতিদের দেখতে আদালতে ভীড় করতে থাকেন। অনেকেই তাদের স্বাগতম জানান।

বিয়ে শেষে বিচারক মাসুদুজ্জামান বাদীনি ও আসামিকে তার খাস কামরায় ডেকে নিয়ে সংসারের বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। তাদের শিশুটিকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ আদর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাদী পক্ষের আইনজীবী রেবেকা সুলতানা (সুমি), মোর্শেদা বানু হেনা, আসামী পক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম, রুবিনা খাতুন, বাদীর বাবা স্বপন আলী, মা মিতা বেগম, আসামীর বাবা শরিফুল ইসলাম, মা শ্যামলি বেগম।

রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, প্রতিটি সন্তানেরই স্বাভাবিক জীবনজাপনের অধিকার রয়েছে। আদালতের মানবিকতায় আজ যে বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট