1. admin@mohanagarbarta.com : admin :
  2. editor@mohanagarbarta.com : editor :
  3. moshiur12600@gmail.com : moshiur :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
রাজশাহীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রাচীর ও বাড়ি নির্মাণ মঙ্গলবার থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৫ দিনের ছুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি, আজও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান ভূমিকম্পের ৩ মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাজশাহীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রাচীর ও বাড়ি নির্মাণ

আব্দুল জাব্বার (রাজশাহী) :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম দুই নং ওয়ার্ড কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইট দিয়ে বাড়ী নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকার মৃত এমান উদ্দীনের ছেলে বশির উদ্দীন নামের এক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার চিহ্নিত ভুমিদস্যু আমাদের মালিকানাধীন জমি জোর পুর্বক দখল করার পায়তারা করছে। আমাদের এই জমির দলিল এবং খাজনা খারিজ কাগজপত্র সম্পৃর্ণ হালনাগাদ আছে। এই সম্পত্তি আমার বাবা এমান উদ্দীন গত-২৩-০৪-১৯৮০ ইং তারিখের ১৩১৬৮ নং বিক্রয় কবলা দলিল মুলে এসএ, আরএস রেকর্ড এর মালিক এব্রাহ‌িম শেখের নিকট হইতে ক্রয় করেন। মৌজা হড়গ্রাম জেএল ৫১ আর এস খতিয়ান ২৯০ আরএস দাগ ২০৫৩, পরিমান .০৫৫৬ একর জমি আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় ১৬-০১-২০১৩ ইং তারিখে আমাদের ভাই বোনদের কে হেবা ঘোষনা দলিলমূলে রেজিষ্ট্রি করে দেন। এরপর আমরা নিজ নিজ নামে খাজনা খরিজ করে ভোগ দখল করে আসছি। হঠাৎ গত-২১-০৬-২০২৬ তারিখে জমির আশে পাশের লোকজন আমাদের এই জমি দখলের বিষয়ে খবর দিলে বড় ভাই সহ আমি উপস্থিত হই এবং সেখানে গিয়ে দেখি, ভুমিদুস্য মোঃ জুলমত আলী, মোঃ মাহাবুব উদ্দিনসহ ৫ থেকে ৭ জনের সহযোগীতায় বিদ্দির পাটাল গ্রাম‌ের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে মোঃ হেলাল ও মোঃ বাদশা সহ আরও সাত আট জন জমির উপর টিনের বেড়া ও প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি এসময় বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাদের সঙ্গে মারমুখী  আচারণ করে। পরবর্তীতে আমরা ওই দিনই আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করি। যাহার মামলা নং ২০৮/২৬।

মামলায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত আবেদনটি মুঞ্জুর করে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আমি থানায় যোগাযোগ করলে জানতে পারি, আদালতের আদেশটি এসআই সাইফুল এর উপর দায়িত্ব দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কিন্ত এসআই সাইফুল কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে চা আড্ডায় লিপ্ত হয়ে অর্থের বিনিময়ে আমাদের জমি দখলের কাজ করার সুযোগ করে দেন।

এব্যাপারে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে প্রতিপক্ষ মোঃ হেলাল ও মোঃ বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সরেজমিনে তাদের পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসি জানান, আমরা জানি মোঃ এব্রাহিম শেখ ও মোঃ হাফেজজুদ্দিনের নিকট থেকে মৃত রিয়াজুদ্দিনের ছেলে সামসুদ্দিন শেখ সুয়া আট শতক জমি এস.এ খতিয়ান মুলে ক্রয় করে ছিলেন, তখন থেকে সুয়া আট শতক জমি এস.এ- ৮৯৭ আর.এস ২০৫২ দাগে তাদের দখলেও আছে। ওই জায়গাতে সামসুদ্দিনের ছেলেরা বাড়ি ঘর করে তখন থেকে বসবাস করছে এখন পর্যন্ত ওদের দখলেও আছে। সামসুদ্দিনের ছেলেরা ০.০৩৩০ জমি বাংলা মাপে দুই কাঠা পরে ২০৫২ দাগেই বিক্রয় করেন রফিক নামের এক ব্যক্তির কাছে কিন্ত সেটা গোপন রেখে জমি কম আছে বলে আশে পাশের দাগ গুলোতে তান্ডব চালায় তারা। এদের মধ্যে সামাজিকতা নাই বা সমাজে ব্যক্তি বর্গোদের কথা শুনে না। শুধু তাই নয় কিছু দিন আগে এই এলাকাতেই আরেকটি ৬৬ শতক জমি জোর পূর্ব দখল করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। গত ২৪-০৭-২০২৬ তারিখে এই জমিতে লেবার মিস্ত্র কাজ করার সময় পুলিশ এসেছিল কিন্ত ওদের কাজ বন্ধ করেনি।

হড়গ্রাম বিদ্দির পাটাল এলাকার নাম প্রকাশ না সত্বে শিক্ষিত সমাজ বলছে, পুলিশ যদি সেই দিন বলতো যে মামলার ধায্য তারিখ পর্যন্ত এখানে কোন নির্মাণ কাজ করা যাবে না, তাহলে কখনোই প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করতে পারত না। এগুলো হচ্ছে আদালতে মামলার জটলা বাড়ানো পুলিশের কাজ।

আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে পুলিশ কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছে জানতে থানার এসআই সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি থানায় দু পক্ষকেই ডেকে নিষেধ করেছি এবং নোটিশও দিয়েছি। বিবাদীরা কখন ঘর করেছে আমি জানি না। আমি আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি বাদী আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হলে নারাজি দিবে আদালতে।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, যারা এ জমি দখলের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ঘর বাড়ি নির্মাণ করা হলো জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এদিকে রাজশাহী সদর সাব রেজিস্টার অফিসে তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় ১৯-০৩-১৯৭৩ সনের ১৫৩ ভলিউমে দলিল নং ৯৩২৭ পাতা১১২- হইতে১৩২ পাতায় দেখা যায় দলিল গ্রহিতা মোঃ সামসুদ্দিন শেখ পিতা মৃত রিয়াজুদ্দিন শেখ দলিল দাতা ১ মোঃ এব্রাহিম শেখ ২ মোঃ হাফেজজুদ্দিন পিতা মৃত দেদার বকস সাং হড়গ্রাম আর এস খতিয়ান ২৯০-আর এস দাগ ২০৫২ ও ২০৫৩ কোন দাগে কতটুক জমি ক্রয় করলেন তা উল্লেখ নেই।

বড়কুঠি ইউনিয়ন ভুমি অফিস বোয়ালিয়াধিন (হড়গ্রাম আদায় ক্যাম্প) তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায় মৌজা হড়গ্ৰাম জেএল ৫১ ভুক্ত ২৯০ নং-খতিয়ানে, ইব্রাহিম শেখ, হাফিজ উদ্দিন শেখ, পিতা দিদার বকস শেখ নিজ নামে অন্য দাগের সামিলে আর.এস রেকর্ড চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত হয়ে আছে। আর.এস দাগ ২০৫৩ শ্রেণী ভিটা পরিমাণ ০.০৫৫৬ একর জমি মোঃ এমান উদ্দিন পুরোটাই ক্রয় করেন। এদিকে ৫১ নং-হড়গ্রাম মৌজার ১৮০৩৫ নং- জমাবন্দীতে নালিশি দাগ সহ মোট ৩.৫১১৫ একর জমির হিসাব চলমান থাকায় নিম্ম ভাবে নামজারি সম্পাদিত হয়েছে। মোঃ শামসুদ্দীন, পিতা রিয়াজুদ্দিন, সাং হড়গ্রাম, থানা পবা রাজশাহী নামে ২৭০/৯-১/৭৯-৮০ নং- নামজারি কেস এস.এ মোতাবেক ৮৯৭ নং দাগে উল্লেখ.০৮২৫ একর জমি নামজারি করেন। যা প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-২৬২৩, এসএ.হিসাব‌ নং-১৬৯১ যার আর.এস রুপান্তরি দাগ ২০৫২ ও ২০৫৩ নং- ০.০৪৮২ ও ০.০৩৪৩ মোট-০.০৮২৫ একর জমি লিপীবদ্ধ করা দেখা যায়। পরবর্তীতে উক্ত হিসাব হতে (ক) মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতা মৃত এমাজ উদ্দিন সাং হড়গ্ৰাম বিদ্দির পাটাল থানা রাজপাড়া নামে ২৪০৫/৯-১/১০-১১ নং নামজারি কেসে ২০৫৩ নং দাগে ০.০০৭৪ একর জমি নামজারি করেন। যা প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৭৩৩৮, হিসাব নং-৭৪২৯। (খ) মোঃ বাদশা, মোঃ হেলাল উদ্দিন, পিতা মৃত শামসুদ্দীন শেখ সাং হড়গ্ৰাম বিদ্দির পাঠাল, থানা রাজপাড়া রাজশাহী নামে ১৭৭৮/৯-১/১৯-২০ নং-নামজারি কেসে অন্যান্য দাগের সামিলে ২০৫৩ নং-দাগে ০.০২৩৩৬ একর জমি নামজারি করেন যা প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-১২৬০৮, হিসাব নং-১৪২১৯,- প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-১২৬০৮ হিসাব নং-১৪২১৯, ভুমি অফিসের রেজিস্ট্রার বডি হইতে গভীর অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, এসএ.ও আর.এস দাগের সঙ্গে প্রতিপক্ষের নামজারি কেস গুলোর সন্দেহ দেখা যায় সাবেক ৮৯৭ দাগে উল্লেখ ০.০৮২৫ একর জমি নামজারি করে এসএ. ১৬৯১-নং-হিসাব চালু করেন। যাহার আর.এস খতিয়ান হতে কর্তন দেখানো হয় নাই, প্রতিপক্ষগণ উল্লেখিত নামজারি কেসের মাধ্যমে মৃত এমান উদ্দিনের ওয়ারিশদের হক দখলীয় সম্পত্তি নামজারি করেন যাহার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৭৩৩৮ ও ১২৬০৮, হিসাব নং ৭৪২৯ ও ১৪২১৯ -৪২৯৩/৯-১/২০-২১ নং নামজারি কেস টির বিষয়ে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউনিয়ন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া বড়কুঠি ভুমি অফিস এর অধীন (হড়গ্রাম আদায় ক্যাম্প) কর্মরত মোঃ মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই সময় ছিলাম না তবে এই নামজারি কেসটি আমার কাছেও সন্দেহজনক মনে হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট