1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : editor :
  3. [email protected] : moshiur :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে সাড়ে চার হাজার নারী-পুরুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক জেমস পুলিশের হাতে গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪
  • ৭০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার অলকার মোড়ে অভিযান চালিয়ে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ২৫ মার্চ সোমবার দুপুরে পবা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতর নাম গোলাম মোস্তফা জেমস। তিনি রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার সবসার গ্রামের আলমের ছেলে।

নগর পুলিশ জানায়, আসামি গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা আরএমপি’র পবা থানায় মুলতবি ছিল। আসামি গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে অভিযান অব্যাহত রাখে পবা থানা পুলিশ।

গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন আসামি গোলাম মোস্তফা নগরীর বোয়ালিয়া থানার অলকার মোড়ে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী হোসেনের নেতৃত্বে দুপুর আড়াই টায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি গোলাম মোস্তফাকে বোয়ালিয়া থানার অলকার মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আসামী গোলাম মোস্তফা জেমস চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার নারী-পুরুষের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক ছিল।

২০২০ সালের ২২ মার্চ রোববার সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এর চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জেমসকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সহ তার ওই কার্যালয় ঘিরে রাখে কর্মীরা। এনিয়ে তার পর দিন ২৩ মার্চ সোমবার রাজশাহীর আঞ্চলিক সহ জাতীয় পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

ওই সময় প্রকাশিত একটি সংবাদ মহানগর বার্তার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

কর্মীদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় চাঁন অ্যান্ড শপিং কমপ্লেক্সের ৩য় তলায়। প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গতকাল রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কার্যালয় ঘিরে রাখে কর্মীরা।

এনিয়ে চাকরি প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনার পরে চারজনকে আটক করে পুলিশে দেয় প্রার্থীরা। পরে সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জেমস আসলে তাকেও ঘিরে ফেলে চাকরি প্রত্যাশিরা। পরে পুলিশ জেমসকে ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় চেয়ারম্যান জেমস পুলিশকে জানায়, কর্মীদের টাকা ফেরত দেয়া হবে। পুলিশ থাকা অবস্থায় মাত্র দু’জন নারীর টাকা ফেরত দেয়া হয়।

বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘ রাতেও কর্মী অফিসটি ঘিরে ছিল। কোনো মামলা হয়নি। তবে বিষয়টিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে আট ব্যাজ কাজ করছে মাঠে। প্রতি ব্যাজে কমপক্ষে ২৫০ করে সবমিলে প্রায় দুই হাজার কর্মী রয়েছে। এসকল কর্মীদের থেকে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের হয়রানি করে আসছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড একটি ‘হাই-হাই’ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়েছে। তবে কতজনের চাকরি হয়েছে। পণ্যে ও টাকা ফেরত পেয়েছে কতজন এমন সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

তবে বেশকিছু কর্মীকে নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়েছে। তবে কেউ এক মাসেরও বেতন পাননি বলে তারা অভিযোগ করেন। যদিও নিয়োগপত্রের জন্য এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও সংশয়ের মধ্যে রয়েছে কর্মীরা।

সাথী বেগম নামে এক চাকুরি প্রত্যাশী জানায়, ৮ হাজার টাকা পাবেন তিনি। কয়েক মাস থেকে তারা টাকার জন্য ঘুরছেন। টাকা ফেরৎ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, টাকা পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এখানে আমার মত অনেক মানুষ টাকা দিয়েছেন, তাই সবার যা হবে আমারও তাই হবে।

ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার বলেন, প্রতিদিন এখানে ২৫ থেকে ৩০ জন টাকা জমা দিচ্ছেন ১ হাজার ৩৫০ টাকা করে। এভাবে অনেকের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসটিতে দুইটি কক্ষ। ছোট কক্ষটিতে একটি বড় টেবিলে চারজন কর্মকর্তা বসেন যারা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া রয়েছে দুটি সেমিনার সেন্টার, একটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বসার আসন। আর অপরটিতে ১০ থেকে ১২ জন। এখানে নতুনদের বোঝানো হয়। ক্ষুব্ধ কর্মিরা অফিসটির ভেতরে কর্মকর্তা সোহেল শান্তকে আটক করে রাখে। এর আগে কর্মীরা পাশের আরেকটি রুমে তালা লাগিয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নীতি হচ্ছে বেকারদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে কাজে লাগানো। সেই লক্ষে তারা কাজ করছেন। তারা অবসরপ্রাপ্ত, শিক্ষার্থী, নারী ও স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

এছাড়া সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে ব্লক বাটিক, বিউটি পারলার, বেসিক কম্পিউটার, ই-কমার্স, ইনফরমেশন সেল, পণ্য উৎপাদন, বিজ্ঞাপন ব্র্যান্ডিং, পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ, পণ্য বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, রিসার্চ ও ডেভলপমেন্ট এবং তথ্য অনুসন্ধানমূলক বিভিন্ন প্রকার কর্মমুখি প্রশিক্ষণ কর্মশালা চালু করেছে। এই আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জনকারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত পদে লোকবল নিয়োগ দেন তারা। তবে লিফলেটে থাকা বিষয়গুলোর কোনো সত্যতা মিলেনি।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পোস্টেডে দেখা যাচ্ছে মোট পাঁচটি পদের জনবল নেয়া হয়েছে। ৮ম শ্রেণি বা এসএসসি সমমান এর পদ ব্রান্ড প্রোমোটর ও পিয়ন। এই পদে বেতন ৬ হাজার ৪০০ থেকে ১০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

এইচএসসি পাসে সুপারভাইজার। বেতন ১১ হাজার ২০০ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

স্নাতক পাসে ম্যানেজার বেতন ১৭ হাজার ৫০০ থেকে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া স্নাতক পাসে অফিস সহকারী। যার বেতন ৮ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের নিজ নিজ এলাকায় কাজ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা আটকৃত সোহেল শান্ত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোনো পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়না। এটা বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। প্রথমে ১ হাজার ৩৫০ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে দুই শিফটে ট্রেনিং দেয়া হয়। প্রতি শিফটে ১০০ জন করে। এছাড়া ট্রেনিং করতে দুই বছরের মার্কেটিং এর অভিজ্ঞতা লাগবে। যাদের অভিজ্ঞতা নেই তাদের ফরম পূরণের টাকা ফেরত দেয়া হবে না।

একদিনের ট্রেনিং হবে অফিসে। তারপরে সাতদিন মাঠে কাজ করতে হবে। এতে কোম্পানি টিএডিএ হিসেবে ৫০ টাকা করে দেবে। সাতদিন পরে কর্মী ভালো কাজ দেখাতে না পারলে সে বাদ পড়বে। যদি কাজে মনোযোগী ও কাজ ভালো করতে পারলে নিজেদের কোম্পানি ঢাকা অফিসে কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে কথিত প্রতিষ্ঠানটির নওগাঁর মহাদেবপুরের লিচুবাগান এলাকায় আঞ্চলিক কার্যালয় ছাড়া আর কোনো শাখা নেই। মহাদেবপুরের আঞ্চলিক কার্যালয়েও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিভিল ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এর চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জেমস বলেন, বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ চলছে। তবে কোনো পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তার প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে জানানো আছে।

চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল ইসলাম বলেন, এধরনের কোন অভিযোগ পেলে এনজিও ব্যুরোকে জানিয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট