1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : editor :
  3. [email protected] : moshiur :
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

ওপারে চলছে গোলাগুলি, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি

মহানগর রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত ঘেঁষা ঘুমধুম তুমব্রু সীমান্তে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা সরকারের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতভরও দুপক্ষের মধ্যে চলেছে গোলাগুলি। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও সেটি অব্যাহত আছে।

সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছেন দেশটির বিজিপি সৈনিক, চাকমা, রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের হাজারের কাছাকাছি লোকজন। তবে তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় আছে বিজিবি।

এদিকে টানা কয়েকদিনের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কে এরই মধ্যে তুমব্রু সীমান্তের তিনটি গ্রাম কোনার পাড়া, মাঝের পাড়া, বাজার পাড়া জন মানবশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রামে কয়েকজন পুরুষ ছাড়া নারী ও শিশুরা নিজেদের মতো করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।

সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন।

এদিকে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘুমধুম এলাকা পরিদর্শনের সময় মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখের পর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার এলাকাগুলো অশান্ত হয়ে যায়। তাদের সরকারি বাহিনী ও কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীদের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ধারণা দেখা দেয়, যার ফলে বিজিবি সদর দপ্তরে নির্দেশনা অনুযায়ী, সীমান্তে বিজিবি সংখ্যায় শক্তি বৃদ্ধি করেছি। নতুন করে যেন কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পালংখালি বর্ডার এলাকা ভিতরে কিছু মর্টারশেল এসে পড়ে। তবে সেখানে কেউ আহত বা নিহত হয়নি। তারপরও মায়ানমার বিজিপির কাছে কঠোরভাবে প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে গত পরশু রাত থেকে ঘুমধুম, তমব্রু, বাইশফাঁড়ি এলাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর মধ্যে যথেষ্ট সংঘর্ষ আকার ধারণ করে। আমরা বর্ডারকে প্রটেক্ট করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করি, যা আমরা সফল হয়েছি।

তিনি মিয়ানমার বিজিপি প্রসঙ্গে বলেন, গতকাল সকালে হঠাৎ করে যখন বিজিপি বাহিনীরা কোনোভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর সঙ্গে পেরে উঠছিল না তখন জীবন বাঁচানোর জন্য তারা বর্ডারে অনুপ্রবেশ করতে চায়। আমরা তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তাদেরকে নিরাপত্তা মেসেজ দেই। তারপর তারা আমাদের কাছে অস্ত্র সেরেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করে।

এরপর তাদেরকে নিরাপত্তা হ্যাভেনে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করি। তাদের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছে।

মর্টারশেল পড়ে হতাহতের ব্যাপারে বলেন, সোমবার দুপুরে মর্টারশেল আঘাতে দুইজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ বাহিনী (বিজিপি) কে কঠোর প্রতিবাদ লিপি জানিয়েছি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি হেডকোয়ার্টার কাজ করে যাচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের কাছে কনসাল তুলে ধরেছি। অনুপ্রবেশের ব্যাপারে আমাদের সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। ৯৫ জনের বিজিপি মধ্যে সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে তিনি জানান।

এদিকে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, চলমান সীমান্ত সংঘর্ষে মিয়ানমারের অনেক বেসামরিক নাগরিক সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ ডুকে পড়তে পারে, তবে এটা আমরা কোনোভাবেই কামনা করি না। সীমান্তে আটকে পড়া পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট সহ মানবিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক সংস্থাদের এগিয়ে আশা উচিত। তবে কোনোভাবেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেয়া ঠিক হবে না।

এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১১৩ জন বিজিপি সদস্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণের পর ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। পালিয়ে আশা মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আহত ৯ জনকে কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের নাম জা নি মং এবং নিম লাইন কিং, ক্যে থিন সিন, ইয়ো ফো, মং র, মুলিউন থং, কিন মং জ এবং আরও ২ জনের নাম জানা সম্ভব হয়নি। আরও বেশ কয়েকজনকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: সিসা হোস্ট