তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হলো গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাম্প্রতিক অধ্যায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন পার করে দেশে ফেরার মাত্র ১ মাস ২৫ দিন পরই দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলের চোখে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে ভোটে লড়েন তারেক রহমান।
ঢাকা-১৭ আসনে ৭২ হাজার ৬৯৯ এবং বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পান। তার নেতৃত্বে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কয়েকধাপে নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করেন। বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।
শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তার পুরো মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ নেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
পরে একই স্থানে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা।
১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান সিইসি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪) ফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকরা তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্য শরিকরা ৯টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন দখল করেছে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
Leave a Reply