ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতি চলছে গত জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। এরপর থেকে বড় কোনও সংঘাতের ঘটনা না ঘটলেও যেকোনও সময় ফের বেজে উঠতে পারে যুদ্ধের দামামা।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
তিনি বলেন, “হামাসকে চাপ দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ রয়েছে। আমরা যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার জন্য সামরিকভাবেও প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং গাজার পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধ করার সম্ভাবনাকেও আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
এদিকে নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনায় নামতে অস্বীকার করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি চুক্তির প্রথম ধাপ বাড়াতে চান। আর তাই যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পরই গত রোববার ইসরায়েলি সরকার গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।
তবে হামাস এই ধরনের কোনও শর্তের অধীনে অগ্রসর হতে অস্বীকার করেছে। বরং তারা জোর দিচ্ছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে চলবে এবং অবিলম্বে দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আলোচনা শুরু করবে, যার মধ্যে গাজা থেকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাজায় গত ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিন-পর্যায়ের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে বন্দি বিনিময় এবং স্থায়ী শান্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।
মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চালানো নিরলস এই আগ্রাসনে প্রায় ৪৮ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
Leave a Reply